Articles by "খুলনা"

Showing posts with label খুলনা. Show all posts

খুলনার জনপ্রিয় খাবার
খুলনার জনপ্রিয় খাবার স্থান, কি জানা আছে সবার। না জানা থাকলে জেনে নিন।

১) মেগার কাচ্চি,বিফ ও চিকেন বিরিয়ানীঃ খালিশপুর মেগার মোড় বললেই চিনবে সবাই। খুলনার শ্রেষ্ঠ বিরিয়ানী বললে ভুল হবে না।

২) চুক নগরের খাসি, সাতক্ষীরারঃ বাসে উঠে বলবেন চুকনগর, নেমেই সামনে দেখবেন আব্বাসের হোটেল।

৩) জিরো পয়েন্টের গরু ও খাসিঃ চুকনগরের খাসির ছোট ভাই।

৪) পিটিআই মোড়ের মিনি চাইনিজ, চাইনিজ প্যালেস।

৫) নিউমার্কেটের মালাই চা

৬) নিরালা ১ নং রোডের মাথায় পরাটা আর গরুর (ভুড়ি) রোল।

৭) খুলনা জর্জকোটের ভিতরে দত্তের হোটেল, বাংলা কুইজিনের জন্যে এখনও পর্যন্ত বেষ্ট।

৮) সিটি ইন এর ফালুদা

৯) নিউমার্কেটের ছোট দোকানের ফুচকা

১০) নেভি গেটের তৃপ্তি হোটেলের ছানার জীলাপী

১১) শিল্প ব্যাংক ভবনের পেছনে ফারুক ভাইয়ের হোটেল, ঝাল সমৃদ্ধ রান্না

১২) পিকচার প্যালেসে আপ্যায়ণের হালিম ও মোগলাই

১৩) কাচ্চি ঘরের কাচ্চি বিরানি

১৪) ক্যাসল সালামের ফালুদা আইস্ক্রিম সমৃদ্ধ।

১৫) মিনা বাজারের পাশে গোলামের পুরি

১৬) মান্নানের চটপটি ও ফুচকা

১৭) কুয়েট এর পিছনে বাবার দোয়ার মোরগ পোলাও ও মুড়ি মিক্সার

১৮) ফ্রেন্ডস কর্নার, জেলা স্কুলের পাশে, স্নাক্সের জন্যে অসাধারন।

১৯) দৌলতপুর হারুন হোটেলের খাসীর মাংস।

২০) সিটি ইনের চিকেন কর্ণ স্যুপ

২১) খুলনা ভার্সিটির ফলের জুস

২২) খুলনা মেডিকেলের সামনে চাচার পুরি

২৩) সেফ এন সেভের কোল্ড কফি

২৪) ট্র্যাক স্ট্যান্ডের ইলিশ-গোশত

২৫) ঘোষ ডেয়ারির রসমালাই, করনেসনের পাশে

২৬) ময়লাপতা মোড়ের চিকেন গ্রিল।

২৭) সাত রাস্তা মোড়ের দুলাভাইর তেহারি।

২৮) সাত রাস্তা মোড়ের বিফ

২৯) গরিব নেওয়াজের পাশে আলুপুরি

৩০) সাতরাস্তা মোড় থেকে ভিতরে নিরামিষ শিঙ্গাড়া

৩১) ময়লাপতা মোড়ের ফারুকের চাপ

৩২) বি এল কলেজের ঝাল মুড়ি

৩৩) বি এল কলেজের সামিম হোটেলের শিঙ্গাড়া

৩৪) কান্ট্রি লাউঞ্জের কিং বার্গার আর American Chopsuey

৩৫) ক্যাফে গুনগুনের চিকেন শর্মা ও ব্ল্যাক ফরেস্ট

৩৬) জেস্কোর কাবাব, হালিম, পরোটা, মোগলাই পরোটা

৩৭) বড়বাজারের ইন্দ্র মোহনের মিষ্টি।

৩৮) ফেরিঘাট মোড়ের লাল চা ।

৩৯) Burger King এর Mutton Pizza।

৪০) সাহেব এর কবর খানার দুধ চা ওরফে ফান্টু চা 

৪১) খুলনা মেডিকেল এর সামনে সিদ্দিকের লেবু চা।

৪২) KU এর ভেতরে তপন এর চা আর সিদ্দিক ভাই এর জুস ।

৪৩) সাত রাস্তার মোড়ের মিষ্টি পান ।

৪৪) Cornation এর Opposite এ Hot Heart কাবাব এর সিঙ্গারা ও সামুচা ।

৪৫)দৌলতপুর এর সাধন মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এর গরম জিলাপি

৪৬)খালিশপুরের চিত্রালির, লতিফ ভাইয়ের চটপটি .

৪৭) দৌলতপুর মোর্তোজা ম্যানসন এর নিচে সন্ধার পরে চুন্নু ভাইয়ের ঝাল মুড়ি,কাচা ছোলা মাখা ১ এর লাগে।

৪৮)নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এর ২ নং বিল্ডিংয়ের পিছনে সিঙাড়া ও পুরি ও তেঁতুলের জুস।

৪৯)রুপসা ব্রীজের ওপারের মালাই চা, ই.এফ.সি এর পিজ্জা,বিস্ট্রো সির শর্মা,ব্লাক ফরেস্ট কেক

৫০)মিষ্টি মহলের দই,কাঁচাগোল্লা

৫১)খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ময়ূরী হোটেলের রুই মাছের মাথা, কোয়েলের ভুনা.

৫২)১. আড়ংঘাটার জামিলের ফিস BBQ

       ২. বেজেরডাংগার মাংস

৫৩)ময়লাপোতা ও ডাকবাংলার হাজী বিরায়ানি হাউজের তেহেরি ও কাচ্চি অসাধারন।

৫৪) নিউজপ্রিন্ট মোড় খালিশপুর বাবুল ভাই এর লাল চা

৫৫) বায়তুলফালাহ মোড় খালিশপুর বাবু ভাই এর পান

৫৬) হাউজিং বাজার খালিশপুর ওয়াহিদের চা,

৫৭) হাউজিং বাজার খালিশপুর জাহাং গীর ভাই এর শাহী বিরিয়ানি। ।

৫৮) নতুন কোলনী খালিশপুর তোরাব মোড় ভুড়ী ভুনা ও পুড়ি।



========================================================================

মন্তব্য অথবা কোন প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করুন।

পদ্ম বিল
পদ্ম বিল...
করপাড়া,গোপালগন্জ...

যেভাবে যাবেনঃ
  1. ঢাকা গুলিস্তান বাস টার্মিনাল থেকে মধুমতি অথবা টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসে গোপালগন্জ শহর! 
  2. সেখান থেকে টমটম করে করপাড়া বাজার! 
  3. করপাড়া বাজার থেকে ইটের রাস্তা ধরে ৫ মিনিট হাঁটলেই পদ্ম বিল...
জলজ ফুলের রানী বলা হয় পদ্মকে। প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া পদ্মফুল সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে গোপালগঞ্জের বিলের চিত্র। দূর থেকে মনে হবে যেন ফুলের বিছানা পেতে রেখেছে কেউ। প্রতিদিনই এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছে দর্শনার্থীরা!
পদ্ম বিল
গোপালগঞ্জ জেলার চার পাশে রয়েছে অসংখ্য বিল। তার মধ্যে অন্যতম সদর উপজেলার বলাকইড় বিল। গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে। ১৯৮৮ সালের পর থেকে বর্ষাকালে এ বিলের অধিকাংশ জমিতেই প্রাকৃতিকভাবে পদ্মফুল জন্মে। আর এ কারণে এখন এ বিলটি পদ্মবিল নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে।

বর্ষা মৌসুমে চারিদিকে শুধু পদ্ম আর পদ্ম। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গোলাপি রং এরপদ্ম দেখলে মন ও জুড়িয়ে যায়। চোখ যত দূর যায় শুধু পদ্ম আর পদ্ম। এমন অপরূপ দৃশ্য ভ্রমণপিপাসুদের হাতছানি দিচ্ছে। এ বিলের সৌন্দর্য ও পদ্ম দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই আসছে শতশত মানুষ।

সৌজন্যে দীপ বিশ্বাস


========================================================================

মন্তব্য অথবা কোন প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করুন।

সুন্দরবন
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যে ভরপুর বিশ্বের ঐতিহ্য (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) সুন্দরবন। এখানকার সব কিছুই বিস্ময়ে ভরা। দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে সরাসরি খুলনা শহরে এসে হোটেলে অবস্থান করে পছন্দের ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুন্দরবন যাত্রা করা যায়। আবার হোটেলে না উঠে সরাসরি ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও নির্ধারিত সময়ে জাহাজে চড়ে সুন্দরবন ভ্রমণ করা যায়।

প্রায় ছয় হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট এই সুন্দরবন ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ছয়বার তার রূপ বদলায়। সুন্দরবনের করমজল বন্য ও কুমির প্রজনন কেন্দ্র, হারবাড়িয়া ইকো সেন্টার, কটকা, কচিখালী ও নীলকমল অভয়ারণ্য, শেখেরহাট টেম্পল, কলাগাছিয়া ইকো ট্যুরিজম সেন্টার, মান্দারবাড়িয়া অভয়ারণ্য নামের স্পটগুলো পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত। এসব স্পটে কুমির প্রজনন, অসুস্থ হরিণের পরিচর্যা, হাজার বছরের পুরনো স্থাপনার ধ্বংসাবশেষসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যর্ উপভোগ করা যায়। ভাগ্য সহায় হলে হাঁটতে হাঁটতে বানর, হরিণ, গুইসাপ, কাঁকড়া অথবা কুমিরের ঘুরে বেড়ানো দৃশ্যও দেখতে পারেন।

অল্প সময়ে কম খরচে সুন্দরবন ভ্রমণের স্বাদ নিতে হলে করমজলই শ্রেষ্ঠ। মংলা বন্দর থেকে নৌপথে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই ইঞ্জিনচালিত ছোট ছোট নৌকায় চড়ে এখানে যাওয়া যায়। এখানে কুমির প্রজনন কেন্দ্রে ছোট বড় অসংখ্য কুমির দেখতে পাবেন। সুন্দরবনের আরেকটি অভয়ারণ্য হিরণ পয়েন্ট। এটি পুরো সুন্দরবন এলাকার বনেদি অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম। চারদিকে নদীঘেরা। সেখানে হরিণের দল পানি খেতে আসে।

ভাগ্য সহায় হলে বাঘের পানি পানের দৃশ্যও দেখা যেতে পারে। খুলনা শহরে বর্তমানে বিদেশি মানের হোটেলসহ মানসম্মত অনেকগুলো হোটেল আছে। এর মধ্যে অন্যতম অভিজাত হোটেল সিটি ইন, হোটেল ক্যাসল সালাম, হোটেল রয়্যাল ইন্টারন্যাশনাল, টাইগার গার্ডেন। এসব হোটেলের ভাড়া একটু বেশি।

বাংলায় সুন্দরবন-এর আক্ষরিক অর্থ সুন্দর জঙ্গল বা সুন্দর বনভূমি। সুন্দরী গাছ থেকে সুন্দরবনের নামকরণ হয়ে থাকতে পারে, যা সেখানে প্রচুর জন্মায়। অন্যান্য সম্ভাব্য ব্যাখ্যা এরকম হতে পারে যে, এর নামকরণ হয়তো হয়েছে “সমুদ্র বন” বা “চন্দ্র-বান্ধে (বাঁধে)” (প্রাচীন আদিবাসী) থেকে। তবে সাধারণভাবে ধরে নেয়া হয় যে সুন্দরী গাছ থেকেই সুন্দরবনের নামকরণ হয়েছে।

সুন্দরবন বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী প্রশস্ত বনভূমি যা বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম। পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীত্রয়ের অববাহিকায় বদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত এই অপরূপ বনভূমি বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলা জুড়ে বিস্তৃত। সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখণ্ড বনভূমি। ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে।

সুন্দরবন ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এর বাংলাদেশ ও ভারতীয় অংশ বন্তুত একই নিরবচ্ছিন্ন ভূমিখণ্ডের সন্নিহিত অংশ হলেও ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ভিন্ন ভিন্ন নামে সূচিবদ্ধ হয়েছে যথাক্রমে সুন্দরবন ও সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান নামে। সুন্দরবনকে জালের মত জড়িয়ে রয়েছে সামুদ্রিক স্রোতধারা, কাদা চর এবং ম্যানগ্রোভ বনভূমির লবণাক্ততাসহ ক্ষুদ্রায়তন দ্বীপমালা। মোট বনভূমির ৩১.১ শতাংশ, অর্থাৎ ১,৮৭৪ বর্গকিলোমিটার জুড়ে রয়েছে নদীনালা, খাঁড়ি, বিল মিলিয়ে জলাকীর্ণ অঞ্চল।

বনভূমিটি, স্বনামে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও নানান ধরণের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির ও সাপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। জরিপ মোতাবেক ৫০০ বাঘ ও ৩০,০০০ চিত্রা হরিণ রয়েছে এখন সুন্দরবন এলাকায়। ১৯৯২ সালের ২১শে মে সুন্দরবন রামসার স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৪,১১০ বর্গ কি.মি.। এর মধ্যে নদী, খাল ও খাঁড়ি রয়েছে প্রায় ১,৭০০ বর্গ কি.মি. যাদের প্রশস্ততা কয়েক মিটার থেকে শুরু করে কয়েক কি.মি. পর্যন্ত। জালের মত পরস্পর যুক্ত নৌপথের কারণে সুন্দরবনের প্রায় সব জায়গাতেই সহজে নৌকায় করে যাওয়া যায়। সুন্দরবনের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ২টি বনবিভাগ, ৪টি প্রশাসনিক রেঞ্জ – চাঁদপাই, শরণখোলা, খুলনা ও বুড়িগোয়ালিনি এবং ১৬টি বন স্টেশন। বনটি আবার ৫৫ কম্পার্টমেন্ট এবং ৯টি ব্লকে বিভক্ত।

১৯৯৩ সালে নতুন করে খুলনা বন সার্কেল গঠন করা হয়েছে বন সংরক্ষণের জন্য এবং তাতে একটি সংরক্ষক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। বনবিভাগের প্রশাসনিক প্রধাণের পদটি খুলনাকেন্দ্রিক। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অধীনে রয়েছে বহুসংখ্যক পেশাদার, অপেশাদার ও সহায়ক জনবল। ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রীয় একক হল কম্পার্টমেন্ট। চারটি বন রেঞ্জের অধীনে থাকা ৫৫টি কম্পার্টমেন্ট স্পস্টতই নদী, খাল, খাঁড়ির মত প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট অনুযায়ী বিভক্ত।

বাংলাদেশে অভয়ারণ্য তিনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, ১৯৭৩ (P.O. 23 of 1973) দ্বারা। এগুলো হলোঃ
  • পূর্বাঞ্চলীয় সুন্দরবন অভয়ারণ্য: আয়তন প্রায় ৩১,২২৭ হেক্টর। মিঠাপানি ও সুন্দরী গাছের (Heritiera fomes) প্রাধাণ্যের সাথে সাথে গেওয়া (Excoecaria agallocha), প ও কেওড়া (Bruguiera gymnorrhiza) রয়েছে বন্যাপ্রবণ এলাকাটি জুড়ে। সিংড়া (Cynometra ramiflora) হয় অপেক্ষাকৃত শুষ্ক মাটিতে, আমুর (Amoora cucullata) হয় জলপ্রধাণ এলাকায়, গরান (Ceriops decandra) হয় নোনা এলাকায় এবং গোল পাতা (Nypa fruticans) জলধারা বরাবর হয়।
  • দক্ষিণাঞ্চলীয় সুন্দরবন অভয়ারণ্য: বিস্তৃত ৩৬,৯৭০ হেক্টর এলাকা জুড়ে। এলাকাটিতে লবণাক্ততার বিশাল মৌসুমী তারতম্যের প্রমাণ রয়েছে। তুলনামূলকভাবে দীর্ঘকালীন লবণাক্ততাপ্রবণ এলাকাটির প্রধান বৃক্ষ প্রজাতির মধ্যে রয়েছে গেওয়া। এটি প্রায়ই সেসব স্থানে জন্মায় যেখানে সুন্দরী অত সফলভাবে বংশ বিস্তার করতে পারে না।
  • পশ্চিমাঞ্চলীয় সুন্দরবন অভয়ারণ্য: ৭১,৫০২ হেক্টর এলাকা জুড়ে অবস্থিত। এ এলাকার তুলনামূলকভাবে শুষ্ক ভূমি ও নদীর তীরে গেওয়া, গরান ও হন্তাল জন্মে।

এক নজরে সুন্দরবনঃ
নামকরণবাংলায় সুন্দরবন-এর আক্ষরিক অর্থ সুন্দর জঙ্গল বা সুন্দর বনভূমি। সুন্দরী গাছ থেকে সুন্দরবনের নামকরণ হয়ে থাকতে পারে যা সেখানে প্রচুর জন্মায়।নিকটবর্তী শহর খুলনা সাতক্ষীরা বাগেরহাট। আয়তন ১৩৯৫০০ হেক্টর (৩৪৫০০০ একর)।


যা আপনায় আকর্ষন করবেঃ
  1. প্রাণীবৈচিত্র্য: সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান মৌলিক প্রকৃতির এবং যা বন্য প্রাণীর বিশাল আবসস্থল। বন্য প্রাণীর সংখ্যা এবং এর লালনক্ষেত্রের উপর মানুষের সম্পদ সংগ্রহ ও বন ব্যবস্থাপনার প্রভাব অনেক। কচ্ছপ (কেটো কচ্ছপ – Betagur baska, সুন্দি কাছিম – Lissemys punctata এবং ধুম তরুণাস্থি কাছিম – Trionyx hurum), গিরগিটি Yellow monitor – Varanus flavescens ও Water monitor – Varanus salvator), অজগর (Python molurus) এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris tigris) সুন্দরবনের স্থানীয় প্রজাতিগুলোর মধ্যে অন্যতম। এদের মধ্যে কিছু প্রজাতি সংরক্ষিত, বিশেষ করে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) (সংশোধিত) আইন, ১৯৭৪ (P.O. 23 of 1973) দ্বারা। বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ (Hog deer – Axis procinus ও Swamp deer – Cervus duvauceli), মহিষ (Bubalis bubalis), জাভাদেশীয় গণ্ডার – Rhiniceros sondaicus ও ভারতীয় গণ্ডার – Rhinoceros unicornis) এবং স্বাদুপানির কুমিরের (Crocodylus palustris) মত কিছু কিছু প্রজাতি সুন্দরবনে বিরল হয়ে উঠেছে ২১ শতকের শুরু থেকে। বাংলাদেশের সুন্দরবন বাণিজ্যিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ১২০ প্রজাতির মাছ, ২৭০ প্রাজাতির পাখি, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ সরীসৃপ এবং ৮ টি উভচর প্রাজাতির আবাসস্থল। এ থেকে বোঝা যায় যে বাংলাদেশের সুন্দরবনে বিভিন্ন প্রজাতির একটি বড় অংশ বিদ্যমান (যেমনঃ ৩০ শতাংশ সরীসৃপ, ৩৭ শতাংশ পাখি ও ৩৭ শতাংশ স্তন্যপায়ী) এবং এদের একটি বড় অংশ দেশের অন্যান্য অংশে বিরল Of these wildlife, Sarker has noted that two amphibians, 14 reptiles, 25 aves and five mammals are presently endangered.। সরকারের মতে এই প্রানীবৈচিত্র্যের মধ্যে ২ প্রজাতির উভচর, ১৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৫ প্রজাতির পাখি এবং ৫ প্রজাতির স্তনপায়ী বর্তমানে হুমকির মুখে। পাখি বিষয়ক পর্যবেক্ষণ, পাঠ ও গবেষণার ক্ষেত্রে পাখিবিজ্ঞানীদের জন্য সুন্দরবন এক স্বর্গ। ইতোমধ্যে বহুপ্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে যার মধ্যে আছে বুনো মহিষ, পারা হরিণ, বুনো ষাঁড়, ছোট ও বড় এক শৃঙ্গি গণ্ডার, বার শিংগা, চিতা বাঘ। আরো লুপ্ত হয়েছে সাদা মানিক জোড়া কান ঠুনি, বোঁচা হাঁস, গগন বেড়, জলার তিতিরসহ বিভিন্ন পাখি।
  2. মানুষখেকো বাঘ: সুন্দরবন প্রায় ৫০০ রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাঘের আবাসস্থল যা বাঘের একক বৃহত্তম অংশ। এসব বাঘ উল্ল্যেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ, গড়ে প্রতি বছরে প্রায় ১০০ থেকে ২৫০ জন, মেরে ফেলার কারণে ব্যপকভাবে পরিচিত। মানুষের বাসস্থানের সীমানার কাছাকাছি থাকা একমাত্র বাঘ নয় এরা। বাঘের অভায়ারণ্যে চারপাশ ঘেরা বান্ধবগড়ে, মানুষের উপর এমন আক্রমণ বিরল। নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ায় ভারতীয় অংশের সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে একটিও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশের সুন্দরবনে ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত কালপরিধিতে অর্ধাশতাধিকের বেশী বাঘ মানুষের হাতে মারা গেছে।
  3. মৎস্য সম্পদ: সুন্দরবনের সামগ্রিক মাছের ওপর পূর্বাপর কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়নি। ফলে মাছের বর্তমান অবস্থা, বিলুপ্ত মাছ, বিলুপ্তপ্রায় মাছের ওপর উপাত্তনির্ভর তথ্য পাওয়া যায় না। শুধু, মানুষ যেসব মাছ খায় এবং যেসব মাছ রপ্তানি উপযোগী, সেসব মাছ চিহ্নিত করা হয়েছে। ধারণা করা হয়, সুন্দরবনে শিরদাঁড়াওয়ালা মাছ রয়েছে প্রায় ৩০০ প্রজাতির। সাইডেনস্টিকার ও হাই-এর (পরিপ্রেক্ষিত ১৯৭৮) মতে, এর মধ্যে বাণিজ্যিক মাছ ১২০ প্রজাতির; অবশ্য বার্নাকসেকের মতে, (২০০০) বাণিজ্যিক মাছ ৮৪ প্রজাতির, কাঁকড়া-চিংড়ি ১২ প্রজাতির ও ৯ প্রজাতির শামুক রয়েছে। সুন্দরবনে মৎস্যসম্পদকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। সব মাছ মিলিয়ে হয় সাদা মাছ, বাকিরা বাগদা, গলদা, কাঁকড়া। আশির দশকে চিংড়ির পোনা ধরা শুরু হওয়ার পর মাছের প্রাচুর্য হঠাৎ কমে যায়। একসময় স্থানীয় জনসাধারণের প্রাণিজ প্রোটিন ৮০ শতাংশ মেটাতো মাছ। এখন মাছ খাওয়ার সৌভাগ্য এলাকার খুব কম লোকের ভাগ্যে জোটে। সুন্দরবনে কালা হাঙর, ইলশা কামট, ঠুঁটি কামট, কানুয়া কামট পাওয়া যায়। আগে এদের খালিশপুর এলাকা পর্যন্ত পাওয়া যেতো, এখন (২০১০) অনেক দক্ষিণে সরে গেছে। পশ্চিম সুন্দরবনে এদের উৎপাত বেশি। এরা সংখ্যায় অনেক কমে গেছে, বিশেষ করে কালা হাঙর প্রায় দেখাই যায় না। ৯ প্রজাতির শাঁকজ বা শাপলাপাতা মাছের অধিকাংশই এখন (২০১০) সুন্দরবনের খাঁড়ি এলাকায় দেখা যায় না। কুঁচে কা কামিলা-জাতীয় মাছের পাঁচটি প্রজাতির সাগর কুইচ্চা ও ধানি কুইচ্চার অবস্থা খুবই খারাপ। আগের দিনে বাম মাছের মতো দেখতে এই মাছগুলো স্থানীয় লোকজন খেত না। এখনো খায় না। তবে হাজার হাজার কাঁকড়া মারা জেলে কুইচ্চা মাছের টুকরো কাঁকড়া ধরার টোপ হিসেবে ব্যবহার করে। শীতকালে সাগরপারের জঙ্গলি খালে পূর্ণ জোয়ারের প্রায় স্বচ্ছ জলে আর্চার ফিশ বা তীরন্দাজ মাছ দেখা যেতো। তিতপুঁটি মাছ আকারের এই মাছগুলো জলের এক-দেড় ফুট ওপরে গাছের পাতা বা ডালে পিঁপড়ে কিংবা মধ্যম আকৃতির বিভিন্ন পতঙ্গ দেখে পিচকারীর মতো তীব্র জল ছিটিয়ে পোকাটিকে ভিজিয়ে জলে ফেলে খেয়ে নেয়। এই মাছ পূর্ণবয়সকালে ফুটখানেক লম্বা হয়। এই মাছগুলো আজকাল আর দেখি না। একসময় জাভা মাছের খুব নাম শোনা যেতো, এরা ৫৫ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। এখন (২০১০) দেখা পাওয়া ভার। পায়রাতলী বা চিত্রার মতো অত্যন্ত সুস্বাদু মাছ আজকাল জেলেদের জালে খুব কম পড়ছে। সুন্দরবনের সবচেয়ে পরিচিত মাছ পারশে মাছ। ১৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা এ মাছটি জঙ্গলের সর্বত্র প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেতো। এখনো পাওয়া যায় খুব কম। পারশেরই জাতভাই বাটা ভাঙান। ভাঙান, গুল বাটা, খরুল ভাঙান আজকাল খুব কম ধরা পড়ে। খরশুলা বা খল্লা অত্যন্ত সুস্বাদু মাছ; বনের নদী-খালে এদের তেমন আর দেখতে পাওয়া যায় না।

কি কি দেখবেনঃ
  • হীরণ পয়েন্ট: হীরনপয়েন্টে গিয়ে কাঠের তৈরি ওয়াকওয়ে ধরে বনের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে বানর, হরিণ, গুইসাপ অথবা কুমিরের ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য দেখা যাবে। হীরণপয়েন্ট ছাড়াও টাইগার পয়েন্ট, বুড়িগোয়ালিনী, হারবাড়িয়া প্রভৃতি এলাকায় ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখাও মিলে যেতে পারে।
  • কাটকা বিচ: কাটকাতে ৪০ ফুট উচ্চ একটি টাওয়ার আছে যেখান থেকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায়। একটি সুন্দর সমুদ্র সৈকত আছে এখানে। পর্যবেক্ষণ টাওয়ার হতে ফেরার সময় হেঁটে বীচের সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায়। কাটকা থেকে কাচিখালী (বাঘের জায়গা) পর্যন্ত প্রচুর ঘাস জন্মে বলে অনেক জীবজন্তুর আনাগোনা রয়েছে। এখানে প্রচুর জীবজন্তও দেখা যায়।
  • জামতলা সৈকত: জামতলায় রয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। যেখান থেকে বিস্তীর্ণ ছনক্ষেতে হাজার হাজার হরিণের ছোটাছুটি আবার কখনও রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখা যেতে পারে। কচিখালী আর কটকার ঠিক মধ্যবর্তী স্থানের নাম বাদামতলা। বাদামতলা অত্যন্ত নির্জন এক সমুদ্র সৈকত। এই সৈকতটি জামতলা সৈকত নামেও পরিচিত। সিডরের আঘাতের চিহ্ন এই সবুজে ঘেরা অপরুপ সৌন্দর্যের সৈকতটিতে এখনো দেখা যায়। মংলা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে কচিখালী। সমুদ্র সৈকতের প্রধান আকর্ষণ। কটকার জামতলা পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে কচিখালী সমুদ্র সৈকত হয়ে বন বিভাগের কচিখালী স্টেশন পর্যন্ত হাঁটা পথ। এ পথের পাশে ঘন অরণ্যে বাঘ, হরিণ, শূকর, বিষধর সাপ ইত্যাদির এক ছমছম পরিবেশ যা দুঃসাহসী পর্যটকদের জন্য মনোমুগ্ধকর। এ সৈকতে প্রায়ই বাঘের অনাগোনা দেখা যায়।
  • মান্দারবাড়িয়া সৈকত: মান্দারবাড়িয়ার একদিকে সুন্দরবন অপরদিকে বঙ্গোপসাগরের মায়াবী জলরাশির অবিশ্রান্ত গর্জন যে কোন মানুষকেই দেবে অনির্বচনীয় আনন্দ। মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত প্রকৃতির অপরূপা সুন্দরবন ও উত্তাল বঙ্গোপসাগরের এক রূপসী কন্যা-যা এখনও কিছুটা অনাবিস্কৃত এবং অস্পর্শিত। এখানে দাঁড়িয়ে দেখা যাবে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। বুড়িগোয়ালিনীর নীলডুমুর থেকে মান্দারবাড়িয়া ৭৫/৮০ কিলোমিটার দুরে। সাতক্ষীরা থেকে বুড়িগোয়ালিনীর দুরত্ব ৭৫ কিলোমিটার। বুড়িগোয়ালিনীর নীলডুমুর পর্যন্ত গাড়ীতে যাওয়া যায়, তার পরের ৭৫/৮০ কিলোমিটার যেতে হবে ইঞ্জিন চালিত নৌকা বা স্পীড বোটে। এই ৭৫/৮০ কিলোমিটার পথের পুরাটাই সুন্দরবনের বুক চিরে যাওয়া বিভিন্ন নদী।
  • দুবলার চর: দুবলার চর সুন্দরবনের অন্তর্গত একটি ছোট্ট চর। এই চরের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ছোট ছোট নদী; সেসব নদী মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। দুবলার চর একটু ভেতরে অবস্থিত বিধায় কোনো দশনার্থী সহজে এই চরে প্রবেশ করতে পারে না।
সুন্দরবনে যে শুধু বেশি খরচেই ঘুরতে হয় তা নয়, চাইলে কিছুটা কম খরচেও ঘুরতে পারবেন আপনি। আর খুব বড় টিম লাগে সেটিও এখন আর যৌক্তিক নয়। এটা ঠিক যে দেশের অন্যান্য যে কোন ভ্রমন স্পটে একা একা বা দুই একজন মিলে যাওয়া গেলেও সুন্দরবন তার ব্যাতিক্রম। লঞ্চ ও তেলের খরচ পোশাতে যেতে হয় দল বেধে। কিন্তু তথ্য বা ধারনা না থাকায় অনেকই এ ভ্রুমন কে কঠিন মনে করে আগ্রহ হারায় বাংলাদেশের গর্ব, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ ম্যানগ্রোভ বন ভ্রমনের প্রতি। সবার অবগতির জন্য সুন্দরবন বিষয়ে কিছু তথ্য দেয়ার চেস্টা করছি। .সুন্দরবনে যে তিন রকমের টুর হয় সেটা নিয়ে তো আগেই লিখেছি, আজ লিখছি তিন দিনের 'লং টুরের' খরচ ও ট্রন্সপোর্ট নিয়ে।

ঢাকা থেকে যাওয়ার ব্যবস্থাঃ

ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন এবং লঞ্চে সরাসরি খুলনা যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এসি এবং ননএসি দুধরনের বাসই চলাচল করে। ঢাকা থেকে সোহাগ পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ এবং ঈগল পরিবহন নিয়মিত চলাচল করে খুলনার উদ্দেশ্য। ভোর ৬ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত গাড়ীগুলো খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে সড়ক পথে খুলনা পৌছাতে সময় লাগে ৭ ঘন্টা ৪৫ মিনিট।

ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন কোম্পানীর লঞ্চ নিয়মিত যাতায়াত করছে খুলনার উদ্দেশ্যে।

সুন্দরবন যেতে হলে খুলনা বা মংলা এর যে কোন একটি যায়গা থেকে আপনাকে উঠতে হবে লঞ্চে। সেখানে রয়েছে বিভিন্ন অপারেটরের বিভিন্ন মাপ ও মানের লঞ্চ।
খুলনা থেকে সাধারনত ৩০ থেকে ৭০ বেডের লঞ্চ পাওয়া যায়। আপনার টিমের আকার যদি ছোট হয় (দুই চার জন) সেগুলোতে অন্যদের সাথে কম্বাইন্ড করে সুন্দরবন ঘুরে আসতে পারেন। সাধারনত প্রতি শুক্র-রবি অথবা সোম/মঙ্গল-বুধ/বৃহঃ খুলনা লঞ্চঘাট থেকে অপারেটরদের প্যাকেজ থাকে। এছাড়া প্রতিদিনই প্যাকেজ থাকার সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু নিশ্চিত নয়। আর নিজেদের লোক সংখ্যা যদি একটি লঞ্চের সমান হয় তাহলে প্যাকেজের ভিতরেই নিজেরাই একটি লঞ্চ নিতে পারবেন।#মংলা থেকেও এই প্যাকেজগুলো করা হয়, কিন্তু এক দুই জনের জন্য নিয়মিত কোন প্যাকেজ নেই। অনেকে সময় বাঁচানোর জন্য খুলনার লঞ্চ গুলোই মোংলায় এনে সেখান থেকে প্যাকেজ করে থাকে।মোংলা থেকে নতুন একটি সার্ভিস চালু হয়েছে। ১০ থেকে ২০ জনের গ্রুপ হলেও প্যাকেজে নিজেরা একটি লঞ্চ নিতে পারবেন। এতে আপনাদের প্রাইভেসিও থাকবে, লোক কম হওয়ায় সার্ভিসও ভালো পাবার সম্ভাবনা থাকে। আর মংলা থেকে লঞ্চে সময়ও ৩ ঘন্টা কম লাগে।
খরচ:
সুন্দরবনের প্যাকেজগুলোতে জাহাজে ওঠার পর থেকে তিনদিনের টুর শেষে আবার ঘাটে ফেরা পর্যন্ত লঞ্চভাড়া, ফুয়েল, খাবার, নাস্তা, প্রত্যেকের সরকারী পাশ, রেভিনিউ, গাইড, গানম্যান, বনে ঘুরার ছোট নৌকা সহ অন্যান্য সব খরচ ইনক্লুড থাকে। অবশ্য পকেটে হিউজ পাত্তি নিয়া গেলেও সেখানে খরচ করার কোন যায়গা নাই! অনেকে ঢাকা থেকেও প্যাকেজ করে। এখানে খুলনা বা মংলা থেকে লম্ভাব্য খরচ উল্লেখ করা হল।
#খাবারের মান ও জাহাজ ভেদে মাঝারি ধরনের একটি টুরে সাধারনত খরচ পরে ৬০০০-৮০০০ টাকা।#বেশি ভালো যেতে চাইলে এর উপরে পারহেড ১৯,০০০ টাকা পর্যন্তও প্যাকেজ আছে।#আর সুন্দরবন টুরের খরচ কমানোর যে চেস্টা করছিলাম। সেই মোতাবেক স্টুডেন্টদের জন্য সুখবর হল এই যে ৩৫ থেকে ৪০ জন হলে একটি লঞ্চে ফ্লোরিং করে ৪০০০-৫০০০ টাকার মধ্যেও তিন দিনের সুন্দরবন ভ্রমন সম্ভব।

তবে ন্যাশনাল হলিডে গুলোতে খরচের কোন লিমিট নেই। আর পরাপর দুইদিন যদি ছুটি পরে তাহলেতো কোন কথাই নেই। খরচ আকাশও ছুতে পারে। আর এডভান্স দিয়ে এক দেড় মাস আগে বুকিং না দিলে ভ্যাসেল পাওযাই কঠিন।
অনেকে জাহাজ ভাড়া নিয়ে নিজেরাই আয়োজন করতে চায়, হ্যা সুন্দরবনে নিজেরাও আয়োজন করা সম্ভব, কিন্তু প্যারা মহদয় আপনাকে এতটাই অতিষ্ঠ করিতে পারে যে, আপনার টুরের আনন্দ মাটি না হয়ে কাঁদায় পরিনত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি!
ঢাকা থেকে খুলনা বা মংলায় যাতায়াত:
#খুলনা কিভাবে যাবেন:ঢাকার গাবতলী/কল্যানপুর/আব্দুল্লাহপুর থেকে আরিচা ফেরি হয়ে খুলনার নিয়মিত বাস আছে। নন এসি বাসের ভাড়া ৫৫০ আর এসি ১৩০০।বাস থেকে নেমে রিক্সা বা অটোতে করে যেতে হবে লঞ্চ ঘাট।আর ট্রেনে করে খুলনা গেলে স্টেশনে নেমে আর কোন গাড়ী নিতে হবে না। কারন স্টেশন ও লঞ্চঘাট একেবারেই গায়ে লাগানো।#মংলা যাওয়ার পদ্ধতি:সায়েদাবাদ থেকে মংলার সরাসরি বাস আছে। এই সেমি চেয়ারকোচ বাসগুলো রাত ৮টা থেকে ৮.৩০ এর মধ্যে ছেড়ে গিয়ে ৫-৬টার মধ্যে মংলা পৌছায়। আর ভাড়া পড়বে ৩৫০-৪৫০।এ ছাড়াও গাজীপুর থেকে মংলা যায় গ্রামীন পরিবহনের একটি গাড়ী।
কিছু পরামর্শ:সুন্দরবন টুরের দুটি উপভোগের বিষয় আছে, প্রথমটি ন্যাচার আর দ্বিতীয়টি ফুড। তাই অপারেটরের সাথে রেট ঠিক করার আগে খুব ক্লিয়ারলী কথা বলুন, সে কি দেখাবে, আর কি খাওয়াবে। কথা পাকা হয়ে গেলে সেই বিষয়গুলো উল্লেখ করে অবশ্যই লিখিত চুক্তি করুন। এক ভ্যাসেলের কথা বলে আরেক ভ্যাসেল দিয়ে দেয়ার অভিযোগ নিয়মিত। তাই চুক্তিতে জাহাজের ছবি সংযোজিত থাকলে আরো ভালো। জাহাজের কাগজ ঠিক আছে কিনা পারলে সেটাও নিশ্চিত হয়ে নিন। গত পরশু এ বিষয়ের একটি পোস্ট খুবই মারাত্নক ছিলো।এ ছাড়াও আরো কোন তথ্যের দরকার হলে ইনবক্স করতে পারেন। ফ্রি সময়ে এ্যানসার দেয়ার চেস্টা করবো। আর খুলনা বা মোংলায় যে কোন ধরনের সমস্যার জন্য যোগাযোগ কইরেন, স্থানীয় হিসেবে যতটুকু পারি সহযোগীতা করবো ইনসাল্লাহ।

কোথায় থাকবেন:
ট্যুরিস্ট ভেসেল বা নৌযান ছাড়াও সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে হিরণপয়েন্টের নীলকমল এবং টাইগার পয়েন্টের কচিখালী ও কাটকায় বন বিভাগের রেস্টহাউজে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। যার ফি নীলকমলে দেশি পর্যটকদের জন্য প্রতি কক্ষ তিন হাজার টাকা,চার কক্ষ ১২ হাজার টাকা। কচিখালী প্রতি কক্ষ তিন হাজার টাকা, চার কক্ষ ১০ হাজার টাকা। কটকা প্রতি কক্ষ দুই হাজার টাকা, দুই কক্ষ চার হাজার টাকা। বিদেশিদের ক্ষেত্রে নীলকমলে পাঁচ হাজার ও ২০ হাজার টাকা, কচিখালীতে পাঁচ হাজার ও ১৫ হাজার টাকা এবং কাটকায় পাঁচ হাজার ও ১০ হাজার টাকা। সুন্দরবনের পাশে সাতক্ষীরা শহরে সাধারণ মানের হোটেল ও শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে এনজিও সুশীলনের রেস্টহাউস ও ডরমেটরিতে একক,পরিবার ও গ্রুপ নিয়ে থাকার সুবিধা রয়েছে। মংলায় আছে পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল,পশুর বন্দরে সাধারণ হোটেল আছে পর্যটকদের থাকার জন্য। খুলনা মহানগরে হোটেল রয়েল,ক্যাসেল সালাম,হোটেল টাইগার গার্ডেন,হোটেল ওয়েস্ট ইন্,হোটেল সিটি ইন,হোটেল মিলিনিয়াম ইত্যাদি মানসম্পন্ন হোটেল ছাড়াও সাধারণ মানের হোটেলে সুন্দরবনে ভ্রমণকারীরা অবস্থান করে থাকেন।


========================================================================

মন্তব্য অথবা কোন প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করুন।

পথে পাবেন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এর দেখা

কুষ্টিয়া ভ্রমণ


বাংলাদেশের মানুষের কাছে সাহিত্য ও সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া জেলা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়া জেলা শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বাংলাদেশকে করেছে সমৃদ্ধ। কুষ্টিয়া জেলায় জন্ম গ্রহন করেছেন বাউল সম্রাট লালন, সুরকার ও কবি আজিজুর রহমান, কবি দাদ আলী, লেখিকা মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা, আবু জাফর, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান। ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যেতে ৬/৭ ঘন্টা সময় লাগে।

অবস্থানঃ
উত্তর পশ্চিম এবং উত্তরে পদ্মা নদীর অপর তীরে রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা জেলা, দক্ষিণে ঝিনাইদহ জেলা, পশ্চিমে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলা এবং ভারতের নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলা এবং পূর্বে রাজবাড়ী জেলা অবস্থিত। ভারতের সাথে কুষ্টিয়ার ৪৬.৬৯ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা আছে।

যাতায়াত পদ্ধতিঃ

কুষ্টিয়া জেলায় দুইটি উপায়ে ভ্রমণ করা যায়।
  • সড়ক পথ
  • রেল পথ

সড়ক পথে ভ্রমণঃ
গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে কুষ্টিয়া জেলায় ভ্রমণের জন্য সরাসরি বাস পাওয়া যায়। চেয়ার কোচ, ভলভো, হুন্দাই, এসি, নন-এসি সব ধরনের বাস যায়। ভাড়াঃ নন-এসি- ৪৫০ টাকা, এসি- ৭০০ টাকা, আর ভলভো, হুন্দাই- ১০০০ টাকা। 

ট্রেনে ভ্রমণঃ
কমলাপুর রেল ষ্টেশন থেকে যমুনা সেতু হয়ে কুষ্টিয়া ট্রেন যোগে ভ্রমণ করা যায়। এই রুটের ট্রেন গুলোর মধ্যে চিত্রা, তূর্ণা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস এর মধ্যে অন্যতম।


যাত্রা পথে চোখে পড়বেঃ

  • সাভার স্বৃতিসৌধ
  • সাভার ক্যান্টনমেন্ট
  • জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়
  • সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন দর্শণীয় স্থান
  • নাটোর জেলার বিভিন্ন দর্শণীয় স্থান
  • পাবনা জেলার বিভিন্ন দর্শণীয় স্থান


দর্শনীয় স্থানঃ

  1. কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহের কুঠিবাড়ীঃ অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে রবীন্দ্রনাথের ঠাকুরদা দ্বারকানাথ ঠাকুর শিলাইদহ জমিদারী ক্রয় করে ১৮১৩ সালে তিনি কুঠিবাড়িটি নির্মাণ করেন। দ্বিজেন্দ্রনাথ, জ্যোতিবিন্দ্র নাথ, হেমেন্দ্রনাথ, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ ঠাকুর বংশের প্রায় সকলেই পদ্মা গড়াই বিধৌত এখানে বসবাস করেন। মূলতঃ জমিদারী কাজকর্ম দেখাশুনার জন্য এই বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল। সে সময়ে ঠাকুর পরিবারের কুষ্টিয়ার শিলাইদহ; নাটোরের পতিসর ও পাবনার শাহজাদপুরে তিনটি জমিদারী ছিল। পারিবারিক আদেশে রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে জমিদারী পরিচালনার জন্য এসেছিলেন। কুষ্টিয়া শহর থেকে আলাউদ্দিন মোড় পর্যন্ত বাসে গিয়ে স্থানীয় যানবাহন রিক্সা-ভ্যান ও নসিমন যোগে যাওয়া যায়। কুষ্টিয়া শহর থেকে দুরত্ব ১ কিলোমিটার। সপ্তাহে প্রতি রবিবার এবং সোমবার বেলা ৩:০০ টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। এছাড়া অন্যান্য সব দিন সকাল ১০-০০ টা হতে সন্ধ্যা ৬-০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রত্নতত্ব বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন কুষ্টিয়া রবীন্দ্র কুঠিবাড়ীর সার্বিক তত্বাবধানের দায়িত্বে একজন লাইব্রেরিয়ান-কাম-কাস্টোডিয়ান নিয়োজিত আছেন।
    শিলাইদহের কুঠিবাড়ী
  2. ছেঁউড়িয়াস্থ বাউল সম্রাট লালন শাহের মাজারঃ আধ্যাত্মিক সাধক লালন শাহ’র কুমারখালীর ছেঁউড়িয়াতে আশ্রয় লাভ করেন এবং পরবর্তীকালে ছেঁউড়িয়াতে মৃত্যুর পর তাঁর সমাধি স্থলেই এক মিলন ক্ষেত্র (আখড়া) গড়ে ওঠে। ফকির লালন শাহের শিষ্য এবং দেশ বিদেশের অগনিত বাউলকুল এই আখড়াতেই বিশেষ তিথিতে সমবেত হয়ে উৎসবে মেতে উঠে। এই মরমী লোককবি নিরক্ষর হয়েও অসংখ্য লোক সংগীত রচনা করেছেন। লালন শাহর মাজার কুষ্টিয় শহর থেকে দুরত্ব প্রায় ৪ কিঃমিঃ। কুষ্টিয়া শহর থেকে গাড়ী,রিক্সা ও ভ্যানে যাওয়া যায় সপ্তাহে প্রতিদিন খোলা থাকে। নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা পরিচালিত।
    লালন শাহের মাজার
  3. মীর মশাররফ হোসেনের বসত ভিটাঃ বিষাদ সিন্ধুর রচয়িতা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেনের বসত ভিটা কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়ায় অবস্থিত। এখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়,একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ছোট আকারের একটি লাইব্রেরী আছে। ১৭ অক্টোবর ২০০৮ সালে মীর মশাররফ হোসেনেরনামে স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে ৫৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদ কুষ্টিয়া কর্তৃক একটি লাইব্রেরী ও অডিটরিয়াম নির্মান করা হয়। কুষ্টিয়া শহর থেকে গাড়ী,বাস ও ভ্যানে যাওয়া যায়। কুষ্টিয়া শহর থেকে দুরত্ব ৬ কিঃমিঃ।
    মীর মশাররফ হোসেনের বসত ভিটা
  4. ঝাউদিয়ার শাহী মসজিদঃ কুষ্টিয়া সদর থানার অমত্মর্গত ঝাউদিয়া গ্রামে শাহী মসজিদ মোঘল সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে ঝাউদিয়ার জমিদার শাহ সূফী আহমদ আলী ওরফে আদারী মিয়া নির্মাণ করেন। এটি মোঘল শিল্পকলার এক অপূর্ব নিদর্শন। মসজিদটি তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এবং এর চার কোনায় চারটি বড় মিনার আছে। ১৯৮০ সাল থেকে প্রত্নতত্ব বিভাগ এটি সংরক্ষণ করে আসছে। ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ কুষ্টিয়া শহর থেকে সড়ক পথে যাওয়া যাবে। কুষ্টিয়া শহর থেকে দুরত ২২ কিঃ মিঃ। স্থানীয় পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা মসজিদটি পরিচালিত হয়ে থাকে।
  5. ঝাউদিয়ার শাহী মসজিদ


    ========================================================================

    মন্তব্য অথবা কোন প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করুন।


মান্দারবাড়িয়া – সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের তীরভূমি জুড়ে এক নয়নাভিরাম বালুকাময় সমুদ্র সৈকত এর নাম। বাংলাদেশে যে মান্দারবাড়িয়া নামে একটা সমুদ্র সৈকত আছে তা বেশীর ভাগ মানুষের কাছেই অজানা। সাতক্ষীরা জেলার হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর তীরে মান্দারবাড়িয়ায় বন আর তার সম্মুখে বঙ্গোপসাগরের তীর জুড়ে নয়নাভিরাম বালুকাময় সমুদ্র সৈকত যেন প্রকৃতির এক অপার সৃষ্টি। সাতক্ষীরার বুড়িগোয়ালিনীর নীলডুমুর নৌঘাট থেকে মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব আনুমানিক ৭৫ কিলোমিটার। নীলডুমুর পর্যন্ত গাড়ীতে যাওয়া যায়, তার পরের পথ যেতে হবে ইঞ্জিন চালিত নৌকা বা স্পীড বোটে। এই ৭৫/৮০ কিলোমিটার পথের পুরাটাই সুন্দরবনের বুক চিরে যাওয়া বিভিন্ন নদী। বুঝতেই পারছেন মান্দারবাড়ীয়া কেবল মাত্র হার্ডকোর ঘুরুঞ্চিদের জন্য। মান্দারবাড়িয়ার একদিকে সুন্দরবন অপরদিকে বঙ্গোপসাগরের মায়াবী জলরাশির অবিশ্রান্ত গর্জন যে কোনো মানুষকেই নেশা ধরিয়ে দেবে।নীলডুমুর ঘাট থেকে যাত্রা শুরু করে খোলপেটুয়া-কপোতাক্ষ নদের সঙ্গমস্থলের পাশ কাটিয়ে কলাগাছিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, মালঞ্চ নদী হয়ে পৌঁছতে হবে মান্দারবাড়িয়ায়। এই যাত্রাপথের পাশে দেখা যাবে আরো বিশাল নদী। এই নদীগুলোর উভয় পাশেই দেখা যাবে চিরহরিৎ সুন্দরবনকে। দেেখ দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে। এ যেন সবুজের রাজ্য। সুন্দরী, কেওড়া, বাইন, পশুর, গরান, গোলপাতা, সিংড়া, হেতাল, খলসী, গেওয়া গাছের সম্মিলনে এখানে ঘটেছে সবুজের মিলনমেলা। ম্যানগ্রোভ ফরেষ্টের শ্বাসমূল আর তাতে হরিণ সহ নানা প্রাণীর ছুটে চলা আপনাকে বিমোহিত করে রাখবে। নয়ন ভরে দেখার মত সে দৃশ্য। পানকৌড়ি আর বালিহাসের উড়ে যাওয়া দেখতে দেখতে এক সময় পৌছে যাবেন মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে।প্রায় ৮ কিলোমিটার লম্বা এই সমুদ্র সৈকত যেন ছবির মত । অসম্ভব ভালোলাগার আচ্ছন্নতায় মুগ্ধ। কক্সবাজার, টেকনাফ, উখিয়া, ইনানী, সেন্টমার্টিন সহ বঙ্গপোসাগরের অনেকগুলো সৈকত হয়তো দেখেছেন। সুন্দরবনে এসে এত বড় একটি সৈকতের দেখা হয়ে যাবে তা হয়তো কেউ ভাবতেও পারবে না। মান্দারবাড়িয়া অন্য সৈকতগুলো হতে একেবারেই আলাদা। অপূর্ব সৌন্দর্য ঘেরা এক জায়গা। পিছনে বাঘের ভয় আর সামনে অসম্ভব ভালোলাগার হাতছানি দেয়া সমুদ্র, বিস্তীর্ণ সৈকত, সবুজ রহস্যে ঘেরা বন। পর্যটকেরা এখানে নির্জন সৈকতে নিজেকে নষ্টালজিয়ার জালে জড়িয়ে খুঁজতে থাকবেন ভিন্ন এক অনুভূতি। সৈকতের বুকে হরিণ আর বাঘের পায়ের ছাপ সে সম্মোহনকে আরও বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুন। তাই যারা ভ্রমন বিলাসী আর এ্যাডভেঞ্চার করত আগ্রহী তারা ঘুরে আসুন দেশের অজানার সুন্দর সৈকত মান্দারবাড়িয়া থেকে আর নিজের নামটা লিখিয়ে রাখুন নতুনদের তালিকায়। কিভাবে যাওয়া যায়ঃ ঢাকার শ্যামলী থেকে সাতক্ষীরার বাস ধরে সাতক্ষীরা/শ্যামনগর যেতে হবে। ভাড়া এসি ৫০০/৬০০, নন এসি ৩০০/৩৫০ টাকা। ঢাকা থেকে সাতক্ষীরার দূরত্ব ৩৪৩ কিলোমিটার। সাতক্ষীরা সদর থেকে বুড়িগোয়ালীনি ৭০ কিলোমিটার। সহজে মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে যাওয়া যাবে বুড়িগোয়ালিনীর নীলডুমুরস্থ নৌঘাট থেকে। ইঞ্জিন চালিত নৌকা, স্টিমার বোটে করে শীত মৌসুমে (অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) সময়ে মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে যাওয়া যাবে। স্টিমার বা ইঞ্জিন চালিত নৌকা করে পৌঁছাতে সময় লাগবে ৬/৭ ঘণ্টা। স্পিড বোট যোগে বুড়িগোয়ালিনীর নীলডুমুর থেকে মান্দারবাড়িয়া পৌঁছাতে সময় লাগবে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। তিন চার দিনের এই ধরনের ট্যুরে প্রতিজনের খরচ হয় সর্বসাকুল্যে কমবেশি ৭-৮ হাজার টাকা। তবে সাতক্ষীরার এই রুটে মালঞ্চ টুরস্ এন্ড ট্রাভেলস প্যাকেজ পরিচালনা করছে। এখান থেকে সুন্দরবনের দর্শনীয় স্থানগুলো কাছে হয়, সময় লাগে কম, তাই খরচও কম। কম সময়ে সুন্দরবনের অন্যতম চারটি স্পটের মধ্যে হীরণ পয়েন্ট, নীলকমল, দুবলারচর ও মান্দারবাড়ি সমুদ্র সৈকত ঘুরে আসা যায়। জনপ্রতি খরচ হবে আড়াই হাজার টাকার মত। কোথায় থাকবেনঃ সাতক্ষীরার কোন হোটেলে কিংবা শ্যামনগর রেষ্ট হাউজে। সাতক্ষীরায় ভাল মানের আবাসিক হোটেল ও কটেজ সমূহঃ১) হোটেল সংগ্রাম (ইটাগাছা) ২) হোটেল. সম্রাট (পলাশপোল) ৩) হোটেল সীমান্ত (পলাশপোল) ৪) মোজাফ্ফর গার্ডেন (খড়ি বিলা) ৫) হোটেল মোহনা (ঢাকা স্টান্ড) ৬) হোটেল উত্তরা।


========================================================================

মন্তব্য অথবা কোন প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করুন।



সুন্দরবন


রাশ মেলা হয় ভরা পুর্নিমায়। জীবনে পুর্নিমাতো বহুবার দেখা হয়েছে, কিন্তু সুন্দরবন আর বঙ্গপসাগরের মিলন স্থলে বসে তা উপভোগের সৌভাগ্য কয়জনের হয়? আর দুবলার চরের রাশ মেলা দেখে সুন্দরবনের অন্যান্য প্রচলিত স্পটগুলোতেও যায় অনেকে। মেলাটি মুলত হিন্দুদের হলেও এখানে বন্দনা হয় গাজী কালুরও। তবে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহনের ফলে এটি আর শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসব থাকেনা, পরিনত হয় সার্বজনিন একটি মেলায়। দেশ বিদেশের হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি এ মেলাকে করে তোলে প্রানবন্ত। 
অন্যান্য সময়ে শুধু পারমিশন পাওয়া টুরিস্ট লঞ্চগুলো সুন্দরবনে ঢুকতে পারলেও রাশ মেলা তার ব্যাতিক্রম। রাশ মেলায় সুন্দরবনে ঢুকতে পারে যে কোন নৌযান। তাই এই সময়ে সুন্দরবনে যাওয়া যায় বিভিন্ন মাধ্যমে। শুধু রাশে গেলে আপনার স্পট গুলো হতে পারে: দুবলার চর, আলোর কোল, হারবিড়ীয়া, করমজল। নাব্যতার উপর ডিপেন করে যাওয়া যেতে পারে হিরন পয়েন্টও। আর পারমিট করা জাহাজে গেলে যেতে পারবেন কটকাতেও।
বেশ কয়েকভাবেই রাশ মেলায় যাওয়া যায়

ভাল মানের টুর:

  • টুর অপারেটরদের প্যাকেজের মাধ্যমে যাওয়া: খুলনা ও মংলা থেকে বিভিন্ন টুর অপারেটররা প্যাকেজ করেন। তাদের মধ্যমে যেতে পারেন। মানের উপর ভিত্তি করে তিন দিনের থাকা খাওয়া ও সরকারী পাশ পারমিশন সহ এ টুরে আপনার খরচ হতে পারে ৭০০০-৯০০০ টাকা পর্যন্ত। অধিকাংশ অপারেটরই তাদের কোয়ালিটি মেনটেন করে। তবে মাঝে মাঝে তাদের কথার সাথে কাজের মিল না থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। তাই আগে থেকে একটু খোঁজ খবর নিয়ে অপারেটর ফিক্স করাটাই ভালো। লোক সংখ্যা বেশি হলে শুধু আপনাদেরকেই একটি লঞ্চ দিয়ে প্যাকেজ করে দেবে তারা।
  •  বিভিন্ন ট্রাভেল গ্রুপের ইভেন্ট: রাশ উপলক্ষে ঢাকা থেকে বিভিন্ন ইভেন্ট হয়ে থাকে। সেগুলোর খরচও উপরে উল্লেখিত প্যাকেজের মতই। শুধু ঢাকা থেকে যাওয়া আসার খরচটা বাড়বে।
মাঝারি মানের টুর:


  • জালি বোটে করে যাওয়া: জালি বোট মানে জেলেদের বোট নয়। ফাইবার বডির সুন্দর ডেকরেশনের এক ধরনের বোট আছে, এগুলো অন্য সময়ে শুধু করমজন পর্যন্ত যায়। রাশ উপলক্ষে এরাও যায় দুবলার চর। এগুলোতে ভিতরে এক বেডে পাঁচজন শোয়ার ব্যবস্থা আছে। আর উপরে ছোফায় বসে সুন্দরবন দেখতে পারবেন আপনি। চাইলে রাতে শোবার সময় সাদে তাবু করে শুতে পারবেন আরো ৫ জন। লোক সংখ্যা আর খাবার মানের উপর ভিত্তি করে মোট ১০ জনের এ লঞ্চ গুলোর প্যাকেজে আপনার খরচ পরবে সর্বোচ্চ ৫০০০-৬০০০ টাকার মত। এটা সাধারনত স্টুডেন্টদের জন্য করা হয়। কেউ চাইলে এই বোট গুলো ভাড়া নিয়ে নিজেরাও খাবার এরেঞ্জ করতে পারবেন।
লোকাল মানের টুর:


  • ট্রলারে করে যাওয়া: জেলেদের ট্রলারগুলোও এ সময়ে ভাড়া পাওয়া যায়। ১৫-২০ জন ক্যাপাসিটির কাঠের এ ট্রলারগুলোতে করে গেলে পারহেড খরচ আসতে পারে ৩০০০-৪০০০ টাকার ভেতরে। এ ট্রলারগুলোও যে কেউ চাইলে ভাড়া নিয়ে নিজেরা খাবার এরেঞ্জ করতে পারবেনে।
লাক্সারিয়াস টুর:

আপনি চাইলে সম্পুর্ন এসি লঞ্চে রাশমেলায় সুন্দরবন ভ্রমন করতে পারেন। সে জন্যে আপনাকে গুনতে হতে পারে ১৫,০০০-২০,০০০ টাকা পর্যন্ত। ওদের খাবার মেনুও যথেস্ট ভালো।

বি: দ্র:
রাশের সময় সব লঞ্চই আগে থেকে বুকিং হয়ে যায়, এখনই অধিকাংশ লঞ্চ বুকিং হয়ে গেছে হয়ত। তাই সবগুলো অপশন পাবেন কিনা নিশ্চিত নয়। যে কোন ইনফোর জন্য ইনবক্স ঝাঝড়া করতে পারেন, অসুবিধা নাই। আর মংলাতে যে কোন ধরনের প্রবলেমে যোগাযোগ করতে পারেন।
কিছু তথ্য ভুল থাকলে বা এর বাইরেও আর কোন ইনফো থাকলে আমাকে জানালে এড করে দেবো। আর টাকার অংকগুলো কম বেশি হতে পারে।

Author Name

{picture#https://www.facebook.com/photo.php?fbid=1196479430442738} YOUR_PROFILE_DESCRIPTION {facebook#https://www.facebook.com/alwasikbillah} {twitter#https://twitter.com/awasikb} {google#https://plus.google.com/112469283873821392454} {instagram#https://www.instagram.com/awasikb}

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.